Tuesday, 11 August 2026

Bengali Translation of  "The Voice of the Mountain" 


স্তবক ১

উচ্চতর সেই ধ্যানাসনে বসে—

আমি দেখি নদীর বুক চিরে কীভাবে পারাপার করে দূর খেয়ানৌর আলোর রেখা,

তারা একে অপরকে অতিক্রম করে চলে অবিরাম।

আমি চিনি এই নগরাঞ্চল, চিনি নদীর শান্ত মোহনা;

ঐ দূর দিগন্তে, যেখানে আকাশের সমস্ত রঙ এসে ফিকে হয়ে মেশে—

সেখানেই আমি একে নিই পৃথিবীর সমস্ত রূপকথা আর ইতিহাসের নীল নকশা।


স্তবক ২

সেদিন গ্রাম থেকে এলো এক বাক্‌হীন তরুণ,

মুখ ফুটে কিছু বলতে পারলো না বলে

নদীর দেশ থেকে সাথে নিয়ে এলো এক অঞ্জলি রূপালী মাছ।

মনে হয়, এভাবেই ফিরে ফিরে আসে শ্বাশত আচার আর লোকরীতি—

আমরা বাস করি এমন এক জনপদে যা একই সাথে সুপ্রাচীন ও নবীন,

যেখানে কথা বলি প্রতিনিয়ত রূপ বদলে যাওয়া হাজারো ভাষায়।


স্তবক ৩

আমিও যুদ্ধ সাজের বর্ষাটি হেলান দিয়ে রাখি প্রাচীন বৃক্ষকান্ডে,

আর একাত্ম হওয়ার একটি মৌন বার্তা রেখে যাই।

আমি এক প্রবীণ সত্তা—যে পান করে চলে অবিনশ্বর বাতাস,

যে হাওয়া চিরকাল নবীন ও উচ্ছল।

আমার একক জীবনের মাঝে আমি যাপন করেছি সহস্র জীবন;

আমার কণ্ঠস্বরে প্রতিধ্বনিত হয় অতল সমুদ্রের তরঙ্গ আর সুউচ্চ পর্বতের অহংকার।


স্তবক ৪

চিহ্ন ও প্রতীকের এই মহাজাগতিক বিনিময়ে,

আমিই সেই অলৌকিক ধ্বনি যা শৃঙ্খলাবদ্ধ করে এই বিশ্বচরাচরকে;

যা সমৃদ্ধ ও পরিচালিত হয় ইতিহাস আর বিস্ময়ের নিয়মে।

আমিই রুক্ষ মরুভূমি, আবার আমিই ঝরঝর শ্রাবণ ধারা,

পশ্চিমে শান্ত হয়ে বসে থাকা বুনো পাখি;

আমিই সেই অতীত যা প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন করে জন্ম দেয়,

আর জীবনের সেই অণু-কণা—যা অস্তিত্বের টানে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকে।


স্তবক ৫

হাজার হাজার বছর ধরে এই পরম সত্য আমি জানি,

ঠিক যেভাবে তপ্ত রৌদ্রের প্রখর আলিঙ্গনে পুড়ে পাথরেরা চেনে

আকাশের মেঘ আর হঠাৎ নেমে আসা বরষার স্পর্শ।

আমি জানি, মেঘ মানে শুধুই এক মেঘ—

যা আমার হৃতপিণ্ডের ওপর থমকে থাকা এক অনিশ্চিত স্পন্দন।


স্তবক ৬

দিনশেষে এই অনন্ত মহাবিশ্ব কিছুই ফিরিয়ে দেয় না—

স্থায়িত্বের এক চিরন্তন মিছে স্বপ্ন ছাড়া!

শান্তি তো এক মরীচিকা, কেবলই অসত্য এক ছদ্মবেশ;

দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর শান্ত হওয়াটাই এক মুহূর্তের জিরিয়ে নেওয়া।

ঐ দেখুন, প্রাচ্য থেকে যুদ্ধ শেষে ফিরে আসছে বীর যোদ্ধা—

গায়ে তার লাল পিওনি ফুলের মতো রক্তরাঙা দাগ!


স্তবক ৭

আমি সেই নিভে যাওয়া শিশু, যে শেষ নিঃশ্বাস ফেলেছিল পৃথিবীর শেষ সীমানায়—

যে দাঁড়িয়ে আছে আশার আলো আর অন্তিম সমাপ্তির মাঝের নিভৃত দূরত্বে।

আমি আকাশ থেকে ঝরে পড়া তারার মানচিত্র,

আর প্রখর গ্রীষ্মের সেই দাহকাল যা মানুষকে কাঁদায়।

আমি অনুবাদের চোরাবালিতে হারিয়ে যাওয়া সেই নারী—

যে সমস্ত বাধা পেরিয়ে টিকে থাকে আনন্দের ছোট্ট ভেলা ভাসিয়ে।

আমিই সেই গভীর শ্বাস যা উন্মুক্ত করে দেয় গিরিখাতের বদ্ধ দুয়ার,

বৃক্ষচূড়ায় খেলা করা ভোরের মিষ্ট রোদ;

সেখানে—যেখানে সংকীর্ণ উপত্যকা ঝড়ের গতিতে বাতাসকে উড়িয়ে নিয়ে যায়।

আমিই সেই ধ্যানের আশ্রয়—যেখানে স্মৃতির মুক্তি ঘটে

কালের বাঁধাধরা কাল্পনিক শৃঙ্খল থেকে;

আমিই তো পর্বতের নিভৃত চেতনায় সুপ্ত থাকা এক চিরন্তন পরম ঘুম।

No comments:

Post a Comment

https://share.google/Z4GxJg32hSRA   https://share.gemini.google/Z4GxJg32hSRA